দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজ ও স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
সোমবার ( ৬ জুলা্ই)সকালে বাংলা একাডেমিতে অধ্যাপক ফজলুল হকের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি দেশকে ভালোবেসে শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তার অসমাপ্ত কাজ ও স্মৃতি ধরে রাখতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব করণীয় বাস্তবায়ন করবে।
তিনি আরও জানান, অধ্যাপক ফজলুল হককে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এর আগে সকাল ১০টায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ বাংলা একাডেমিতে আনা হয়। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দুপুর ১২টায় অপরাজেয় বাংলা এবং জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করার পাশাপাশি পরবর্তীকালে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে সব স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অধ্যাপক ফজলুল হক ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’ এবং ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’। এছাড়া তার সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘স্বদেশচিন্তা’ উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
এমএম/